জয়নালের কথা মনে পড়ে? স্কুলের প্রথম দিনেই যে মেয়ে ক্লাস ক্যাপ্টেন এর গায়ে জোঁক ছুঁড়ে মেরে হেড স্যারের বেতের বাড়ি খেয়ে চ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছিল। বাঁদরামি দিয়ে পুরো এলাকা মাতিয়ে রাখত যেই জয়নাল, বন্ধুদের আসরে মজার মানুষ সেই দুঃখী জয়নালের কথা কি মনে পড়ে?
নাজমুল, হিমেল আর কবিরের সাথে এখনও যোগাযোগ আছে। সেই নাজমুল,আমি বোলার হওয়া সত্ত্বেও যার ব্যাট আমার দখলে থাকত সবসময়। ওর নাম আমার বাবার নামের সাথে মিল হওয়ায় যে সবসময় আমাকে বলত “আমি তোর বাপ”।ও কি সেই সব দিনের কথা মনে করে কখনও ?
হিমেল অবশ্য আগের মতই আছে। হ্যাংলা-পাতলা, তাল গাছের মতো লম্বা ছেলেটার নাম হিমেল। একবার রাগের চোটে ওকে বিশাল এক মার দিলাম, ওর অবস্থা দেখে ব্যাপক ভয় পেয়েছিলাম; এরপর থেকে কোনদিন কারো সাথে মারামারি করি নি । জানি না ওর কি মনে আছে কিনা সেই দিনগুলো।
কবির আমার বন্ধু ছিল। তবে ওকে কখনই বুঝতে পারলাম না। অত্যন্ত ভদ্র, নম্র এবং লেজ বিশিষ্ট(!)সেই ছেলেটাই কবির। মনে পড়ে?
একদিন স্কুল থেকে বাসায় যাওয়ার পথে আমাকে যেই ছেলেটা বলেছিল, “দোস্ত, অংকে তো ১০০ পাইছি”
-ক্যামনে ? মাত্র তো মাসিক পরীক্ষার খাতা দিল
-তাই তো, দ্যাখ; ২৫ এ ২৫ পাইছি, তার মানে ১ এ ১, সুতরাং ১০০ তে ১০০।(নয়া নয়া ঐকিক নিয়ম শিখছে তখন :P)
-হুম...। ঠিক তো!
শিমুলের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? কয়েকদিন পর পর নতুন নতুন ব্যাট কিনত আর সেই ব্যাট দিয়ে বিশাল বিশাল ছক্কা হাঁকাত। আজব আজব ব্যাটিং স্টাইল আমাকে শেখানোর চেষ্টা করত; আর আমি ভাবতাম “পোলাটার মাথার স্ক্রু মনে হয় হালকা লুজ”। শিমুলের সাথে শেষ দেখা প্রায় ৭ বছর আগে।
জয়নাল আর শিমুলের সাথে জীবনে আর কখনও দেখা হবে কিনা জানি না । নাজমুলকে সহজে পাওয়া যায় না। হিমেল আর কবির আমার খুব কাছাকাছি থাকে, তবুও কেন যেন ওদের সাথে আগের মতো কথা হয় না। হয়ত অনেকদিন যোগাযোগ না হওয়ায় একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে গেছে। বড় একটা ভুল হয়ে গেছে। কোনদিন এই ভুল শোধরাতে পারব কিনা জানি না। তবু বন্ধু, তোরা ভাল থাকিস।
পুনশ্চঃ ফেসবুকের কল্যাণে জয়নালের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে। কিছুদিন আগে ওকে খুঁজে পেলাম এই চেহারা বইয়ে। এই ফেসবুক আসলেই জাদুর কুপি।
ফেব্রুয়ারি ২০১৪