বর্তমানকালে তৈল প্রদান করাএকটি অতীব প্রয়োজনীয় ও গুরুত্তপূর্ণ বিষয়।
বিষয়না বলিয়া ইহাকে শিল্প বলাই শ্রেয়। কতিপয় মহৎপ্রাণ ইহাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়া গিয়াছেন এবং অতীব দুঃখের বিষয় এই যে তাহাদের কারো নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরেতো দূরে থাক; সাধারণ কালি দিয়াও কেউ লিখিয়া রাখে নাই। ইহানিশ্চয় তাহাদিগকে আপমানের সামিল। বর্তমান সমাজের মাথা যারা আছেন, রুই-কাতলা, মাগুর ও পিরানহা; তাহাদের দৃষ্টি এই বিষয়ে আকর্ষণ করার আয়োজন করা হোক, ইহা কোটি বাঙ্গালির প্রাণের দাবি।
যাইহোক, কাজের কথায় আসি। যদিও ইহাকে কাজেরকথা বলার চাইতে অকর্মের কথা বলাই অধিকতর উত্তম হইবে। আর কথাখানা হইলো এই যে- আমি অদ্যবধি তৈল প্রদান শিল্প আয়ত্ত করিতে পারিলাম না। তাহার পিছনে যেই কারণ নিহিত তাহাকে মহর্ষি তৈল প্রদানকারীগণ হাসিয়া উড়াইয়া দিবেন এবং তাহা উড়িতে উড়িতে কোথায় যে ভাসিয়া যাইবে তাহার নিশ্চয়তা কে দিবে?
কেহ যদি আমার সম্মুখে কাহাওকে তৈল প্রদান করে, তখন সেই মহৎ তৈল প্রদানকারী মহাপ্রাণকে আমি ঠিক দেখিতে পারি না। আমার চক্ষু সম্মুখে তখন একটি ছাগ শাবক এর চেহারা ভাসিয়া উঠে এবং তাহার মুখ নিঃসৃত কথাগুলোকে ছাগ শাবকের ডাক; অর্থাৎ ‘ম্যা ম্যা’ মনে হয়।আমার চোখে এবং একই সাথে কর্ণে সমস্যা থাকতে পারে, তবে এই বিষয়ে আমি এখনও সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হইতে পারি নাই।
যাচিয়া পড়িয়া ছাগ শাবক হওয়ার কোনোরূপ বাসনা আমার মনে নাই, কি আর করিব; তৈল প্রদান করিতে পারি না, পাছে ছাগ শাবক হই। অতীব দুশ্চিন্তার বিষয় !
তবে ইহার চাইতে ঢের বেশি দুশ্চিন্তার বিষয় আসিয়া পরিয়াছে। কোন এক ভাবগুরুর নিকট জানিলাম, তৈল প্রদান করিতে যে না পারে সে অধমের অধম, নিচু জাতের নিন্মতম। সকলে তাহাকে গর্ধব বলেই গণ্য করে এবং ঘাস খাইয়াই নাকি তাহার বাকি জীবন অতিক্রম করিতে হইবে।
তৈলপ্রদান করিলে নিজের নিকট নিজেকে তিননম্বর ছাগবৎস বলিয়া মনে হয়, আবার তৈল প্রদান না করিলে সকলে আমার সহিত তিন নম্বর ছাগবৎসের ন্যায় আচরণ করিবে। দ্বিধা হও ধরণী মাতা । মোর কি হনু রে !
অনেক ভাবিয়া উৎঘাটন করিলাম যে আমি বরং তৈল-বাবা হইয়া যাই। ইহাতে দুই লাভ, সাপও মরিল আবার লাঠিও ভাঙ্গিল না। সকলে আমাকে তৈল প্রদান করিবে, আমাকে আর তিন নম্বর ছাগবৎস হইয়া থাকিতে হইবে না।
(বিঃদ্রঃ ইহা একটি অরাজনৈতিক এবং মাদকবিরোধী গাঁজাখুরি পোস্ট)