একদা কোন এক দেশে বাস করিত এক মশা। তাহার কোন কাজ কর্ম নাই, সারাদিন টো টো করিয়া ঘুরিয়া দুঃখিত; উড়িয়া বেড়ায়। যাবতীয় সাধারণ কর্মে তাহার মন নাই, তাহার মন তাহার ডানার ঝাপটায় এদিক ওদিক ঘুরিয়া বেড়ায়। তাহার যেমন কোনদিকে মনঃসংযোগ নাই, তদ্রুপ কাহারও তাহার প্রতি মনঃসংযোগ নাই।
তাহার কাজ একটাই; দেখা। যাহা দেখিত তাহার দিকেই চক্ষু পাকাইয়া চাহিয়া থাকিত। ভাবিত; “ইহা আমি কি দেখিলুম !”
তাহা যাই হোক, মশা একদা মনের ভুলে উড়িতে উড়িতে এক বাড়ির জানলা দিয়া অনুপ্রবেশ করিল। হতভাগা মশা তখনও বুঝিতে পারে নাই ইহা দেশের রাজার বাড়ি। শরাব পান করিয়া অর্ধ মাতাল রাজার কানের নিকট গিয়া ডানা ঝাপটাইলে যে রাজার কাঁচা ঘুম ভাঙ্গিয়া যাইবে এবং রাজা যে তাহাতে অত্যাধিক রগান্বিত হইয়া তাহার প্রাণদণ্ড করিতে পারেন, মূর্খ মশার অনুর্বর মস্তিস্কে তাহা স্থান পাইল না।
অনেকক্ষণ; অনেকক্ষণ, মশা রাজার কর্ণের ঠিক পাশেই ডানা ঝাপটাইতে থাকিল। বোকা মশা যে ঐখানে কি পাহিয়াছে তাহা জানা গেল না।
এইদিকে, মশা দ্বারা উৎপন্ন শব্দে রাজা মহাশয়ের ঘুম ভাঙ্গিল। হুঙ্কার ছাড়িয়া উঠিলেন তিনি, “কোন সে অধম?”
রাজার চিৎকারে মন্ত্রী-প্রধান, উজির, নাজির, সেনাপতি ও কোটালের ঘুম ভাঙ্গিল। তাহারা বিরক্তই হইলেন কিঞ্চিৎ।
বিরক্ত চাপিয়া তাহারা রাজার নিকট রাজার ক্রোধের নিমিত্ত জানিতে চাইলেন। রাজা বলিলেন; “কে আমার ঘুমের বিঘ্ন ঘটায়?”
“কে রাজা মহাশয়ের শরাবি ঘুমের বিঘ্ন ঘটায়? কার ধড়ে দুইটি মাথা? কে সেই অভাজন?”
খোঁজ খোঁজ রব উঠিল। আমাদের সেই মশা অবশেষে রাজার ঘুমের বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে সেনাপতির চৌকশ সৈন্যবাহিনী কর্তৃক ধৃত হইলো। তাহার প্রাণদণ্ড ঘোষণা করা হইলো।
যেহেতু, মশাটিকে পাকড়াও করার কৃতিত্ব দেখাইয়াছেন সেনাপতি; সেহেতু কি করিয়া মশার প্রাণদণ্ড হইবে তাহা নির্ধারণ করিবার দায়িত্ত্ব পড়িল তাহার উপর।
সেনাপতি ভাবিতে লাগিলেন, কি করিলে ব্যাটা মশার উপযুক্ত শাস্তি হয়।
হঠাৎ, আনন্দে লাফাইয়া উঠিলেন তিনি।
“কি হইয়াছে? কি হইয়াছে?” সকলে আশ্চর্য হইয়া প্রশ্ন করিল।
-“মশাকে কামানের গোলার আঘাতে মারিয়া ফেলিব।”
-“বাহ, বেশ বেশ। অতীব উত্তম প্রস্তাব”
পরিশেষঃ
শেষ দৃশ্যে দেখা গেল - মশাকে দড়ি দিয়া ঝুলানো হইয়াছে। তাহার দিকে তাক করিয়া আছে রাজ্যের সব চাইতে বড় কামান। ইষ্টঃ নাম জপিতে লাগিল হতভাগ্য মশা। তাহার ভাগ্যে শেষতক কি ঘটিয়াছে জানা যায় নাই।