ভয়

একটা চোখ খোলা ছিল। ডান চোখ না বাম চোখ বলতে পারি না। অনেক সকাল হয়ে গেছে। নিশ্চিত ১০ টা বাজে। একটা ক্লাস অলরেডি মিস। ভার্সিটি পৌঁছতে পৌঁছতে আরও একটা ক্লাস মিস হবে। রাত করে ঘুমানোর এই একটা বড় সমস্যা।
ঘড়ি দেখার চেষ্টা করলাম। কি ব্যাপার !! আমি নড়াচড়া করতে পারছিনা কেন? একটা চোখ বন্ধ কেন? এদিক ওদিক তাকানোর চেষ্টা করছি। এক চোখে বেশি দূরে দেখা যায় না।

ঘরটাতে আশ্চর্যরকম নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। একটা মিষ্টি ঘ্রাণ আসছে। আতর মনে হচ্ছে। আগরবাতির ঘ্রাণও আসছে। একি !!? আমার নাকে কি? তুলা !! নাকে তুলা আসলো কোত্থেকে? আমি কোথায়? স্বপ্ন দেখছি না তো?
নাহ! স্বপ্নে আলো দেখা যায় না, রং থাকে না। সুতরাং আমি জেগেই আছি। কিন্তু কোথায় আমি? কি হচ্ছে আমার সাথে?
কান্নার শব্দ পাচ্ছি। একসাথে অনেকে কাঁদছে। কারা কাঁদে? কেন? আমার পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। কিন্তু সমস্যা হল আমার কোন অনুভুতি নেই। আশেপাশের কয়েক গজের মধ্যে আমার দৃষ্টি সীমাবদ্ধ। তাও একচোখে।
কতক্ষণ এই অবস্থায় পড়ে আছি জানি না। কি হচ্ছে এসব?!!
কিছুক্ষন পর দুই-একজন ডাক্তার-নার্স দেখতে পেলাম। আমি হাসপাতালে।
এখানে এলাম কিভাবে? কি হয়েছে আমার?
কান্নার শব্দ বেড়ে গেল। আমার মায়ের গলা শুনতে পেলাম। 'আমার ছেলে, আমার ছেলে' বলে চিৎকার করে কাঁদছে। কাঁদছে কেন? আমার তো কিছুই হয়নি। নাকি হয়েছে! আমার মায়ের কান্না খুব বিশ্রী। আমার ভাল লাগে না। তবে এখন খারাপও লাগছে না।
একজন নার্স এগিয়ে আসছে আমার দিকে। তার চোখগুলো বড় নির্লিপ্ত। একটান দিয়ে একটা চেইন লাগিয়ে দিল ...
একি !! আমি একটা ব্যাগের মধ্যে !! তার মানে কি ... ? আমি মারা গেছি? তাহলে আমি সব দেখছি কেন, শুনছি কেন?
কান্নার শব্দ আরও বেড়েছে। কানে লাগছে।
আমি এতক্ষন একটা ট্রলির উপর শুয়ে ছিলাম। কেউ বা কারা যেন ট্রলিটা টানতে শুরু করল। দরজা খোলার শব্দ পেলাম। বুঝতে পারছি নতুন একটা ঘরে আনা হয়েছে আমাকে। এখানে প্রচণ্ড শীত।
হিমঘর !
অনেক টানাহেঁচড়া করে দুইজন মিলে আমাকে অন্য ট্রলিতে উঠিয়ে দিল। তারা কি যেন বলতে বলতে বের হয়ে যাচ্ছে। আমার প্রচণ্ড শীত লাগছে।
ডান চোখের পাতাটা একটু নড়ে উঠলো।
হিমঘরের দরজাটা ঠাস করে বন্ধ হয়ে গেল ।।